Skip to content
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • https://www.facebook.com/
  • https://twitter.com/
  • https://t.me/
  • https://www.instagram.com/
  • https://youtube.com/
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • মুরগী
        • হাঁস
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রাণির রোগব্যাধি
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • পোষা প্রাণী
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • মুরগী
        • হাঁস
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রাণির রোগব্যাধি
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • পোষা প্রাণী
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
Subscribe
Close

Search

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ: পিপিআর, গোট পক্স ও অরফের লক্ষণ

27/08/2026 7 Min Read

ছাগল হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, জ্বর এসেছে, মুখে ঘা হয়েছে কিংবা নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে—এমন অবস্থায় অনেক খামারি প্রথমে ধরে নেন, ‘সর্দি-জ্বর হয়েছে’। কিন্তু ছাগলের কিছু সংক্রামক রোগ খুব দ্রুত এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে দেরি হলে পুরো পাল ঝুঁকিতে পড়ে।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে পিপিআর (PPR), গোট পক্স, অরফ (Contagious ecthyma) এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুরা রোগ (FMD) খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব রোগের লক্ষণ এক নয়, আর শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে রোগের নাম বলা সবসময় সম্ভব নয়।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ কী?

ভাইরাসজনিত রোগ হলো এমন সংক্রমণ, যার কারণ বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস। আক্রান্ত ছাগলের নাক-মুখের স্রাব, লালা, মল, ত্বকের ক্ষত বা অন্যান্য নিঃসরণের মাধ্যমে কিছু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগভেদে সংক্রমণের পথ ও ঝুঁকি আলাদা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসকে মারে না। তাই ভাইরাসজনিত রোগে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই রোগ সেরে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

তবে আক্রান্ত ছাগলের শরীরে পরবর্তী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে।

ছাগলের প্রধান ভাইরাসজনিত রোগগুলো কী কী?

রোগপ্রধান লক্ষণখামারির জন্য গুরুত্ব
পিপিআর (PPR)জ্বর, নাক দিয়ে স্রাব, মুখে ক্ষত, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টখুবই গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত ছড়াতে পারে
গোট পক্সজ্বর, শরীরে গুটি, ত্বকে ক্ষতআক্রান্ত পাল থেকে ছড়াতে পারে
অরফ (Orf)ঠোঁট ও মুখের চারপাশে শক্ত ক্ষত/গুটিছাগল ও মানুষের উভয়ের জন্য সতর্কতার বিষয়
ক্ষুরা রোগ (FMD)মুখে ও পায়ে ফোসকা, লালা পড়া, খোঁড়ানোগবাদিপশুর মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক

সতর্কতা: সব মুখের ঘা, ডায়রিয়া বা জ্বরই পিপিআর নয়। একই ধরনের লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১. পিপিআর: ছাগলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি

পিপিআর বা Peste des petits ruminants ছাগল ও ভেড়ার একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। ছাগলের পাল ব্যবস্থাপনায় এ রোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়।

পিপিআরের লক্ষণ

আক্রান্ত ছাগলে সাধারণত দেখা যেতে পারে—

  • হঠাৎ জ্বর
  • খাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া
  • নাক ও চোখ দিয়ে স্রাব
  • মুখের ভেতরে ক্ষত বা ঘা
  • মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • কাশি বা শ্বাসকষ্ট
  • পাতলা পায়খানা
  • দ্রুত দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু

সব ছাগলের ক্ষেত্রে একই সময়ে একই লক্ষণ দেখা যাবে—এমন নয়।

কীভাবে ছড়ায়?

আক্রান্ত প্রাণীর শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণসহ বিভিন্ন সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগ ছড়াতে পারে। কাছাকাছি রাখা অনেক ছাগলের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

সন্দেহ হলে কী করবেন?

একটি ছাগলের মধ্যে জ্বর, মুখের ক্ষত, নাক দিয়ে স্রাব, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট একসঙ্গে দেখা গেলে তাকে অন্য ছাগল থেকে আলাদা করে রাখুন।

একই খাবার-পানি ব্যবস্থাপনা, খামারের যন্ত্রপাতি ও কর্মীদের চলাচলের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

চিকিৎসা কী?

পিপিআর ভাইরাসের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে ‘ভাইরাস মেরে ফেলার’ নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই। তাই চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হয় আক্রান্ত প্রাণীকে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং দ্বিতীয়িক সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো।

পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ

পিপিআর নিয়ন্ত্রণে টিকাদান, আক্রান্ত প্রাণী দ্রুত আলাদা করা এবং খামারে জীবাণুনিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. গোট পক্স: শরীরে গুটি দেখলেই অবহেলা নয়

গোট পক্স ছাগলের একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। রোগটি ত্বক ও শরীরের অন্যান্য অংশে ক্ষত তৈরি করতে পারে।

লক্ষণ

আক্রান্ত ছাগলের মধ্যে দেখা যেতে পারে—

  • জ্বর
  • অবসাদ
  • খাবারে অনীহা
  • শরীরে গুটি বা পক্সের মতো ক্ষত
  • ত্বকে লালচে পরিবর্তন
  • পরে ক্ষত শুকিয়ে খোসা তৈরি হওয়া
  • গুরুতর অবস্থায় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে

ছোট বাচ্চা, দুর্বল প্রাণী ও খারাপ ব্যবস্থাপনার পরিবেশে রোগের প্রভাব বেশি হতে পারে।

খামারির করণীয়

শরীরে নতুন ধরনের গুটি বা ক্ষত দেখা দিলে আক্রান্ত ছাগলকে আলাদা রাখুন। একই সঙ্গে খামারের অন্য ছাগলগুলোর শরীর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

গুটি কেটে, ফুটিয়ে বা নিজের মতো করে কোনো রাসায়নিক লাগানো ঠিক নয়।

৩. অরফ: মুখের চারপাশে ক্ষত হলে সতর্ক হোন

Orf বা Contagious ecthyma ছাগলের একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ঠোঁট ও মুখের চারপাশে শক্ত, খসখসে ক্ষত বা গুটি দেখা যায়।

বাচ্চা ছাগলের ক্ষেত্রে দুধ খেতে সমস্যা হওয়ায় দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

অরফের বিশেষ দিক

এ রোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানুষও আক্রান্ত হতে পারে।

তাই আক্রান্ত ছাগলের মুখের ক্ষত খালি হাতে ধরবেন না। বিশেষ করে খামারে কাজ করা ব্যক্তি, শিশু ও যাদের হাতে কাটা-ছেঁড়া আছে তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

অরফ সন্দেহ হলে গ্লাভস ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত প্রাণী আলাদা রাখা ভালো ব্যবস্থা।

৪. ক্ষুরা রোগ: ছাগলেও হতে পারে

ক্ষুরা রোগ বা Foot-and-mouth disease (FMD) বিভিন্ন খুরযুক্ত প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। গরুর ক্ষেত্রে রোগটি বেশি আলোচিত হলেও ছাগলও আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষণ

  • জ্বর
  • মুখে ফোসকা বা ক্ষত
  • অতিরিক্ত লালা পড়া
  • খাবার খেতে কষ্ট
  • পায়ে ক্ষত
  • খোঁড়ানো
  • চলাফেরায় অনীহা

তবে সব আক্রান্ত প্রাণীতে একই মাত্রায় লক্ষণ দেখা যায় না।

মুখে ফোসকা ও খোঁড়ানো একসঙ্গে দেখা গেলে বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না।

ভাইরাসজনিত রোগে ছাগলের চিকিৎসা কীভাবে হয়?

এখানেই খামারিদের সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।

অনেকে ভাইরাসজনিত রোগ শুনেই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জ্বরের ওষুধ বা ইনজেকশন নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবহার শুরু করেন। এতে মূল ভাইরাসের চিকিৎসা হয় না এবং ভুল ওষুধ ব্যবহারে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসা রোগের ধরন ও প্রাণীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

পশুচিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী—

  • পানিশূন্যতা নিয়ন্ত্রণ
  • পুষ্টি ও পানি গ্রহণ নিশ্চিত করা
  • জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ
  • মুখের ক্ষতের পরিচর্যা
  • শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা পর্যবেক্ষণ
  • দ্বিতীয়িক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা

ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

ভাইরাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে ‘একটি ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে’—এমন ধারণা থেকে বের হতে হবে।

প্রথম কাজ হলো রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধে খামারির ৮টি কাজ

১. নিয়ম অনুযায়ী টিকা দিন

খামারের ছাগলের জন্য প্রযোজ্য টিকা স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিন।

টিকা দেওয়ার সময় ছাগলের বয়স, স্বাস্থ্য, এলাকার রোগের ঝুঁকি এবং প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচি বিবেচনা করা দরকার।

২. নতুন ছাগল সরাসরি পুরোনো পালে ছাড়বেন না

বাজার থেকে নতুন ছাগল কিনে সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো পালের সঙ্গে রাখার অভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ।

নতুন প্রাণীকে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৩. অসুস্থ ছাগল আলাদা করুন

একটি ছাগল অসুস্থ হলে ‘দেখি কাল ভালো হয় কি না’ বলে পুরো পালের মধ্যে রাখবেন না।

সন্দেহ হলেই আলাদা করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

৪. খামার পরিষ্কার রাখুন

মল-মূত্র জমে থাকা, ভেজা মেঝে, অপরিষ্কার খাবারের পাত্র ও দূষিত পরিবেশ রোগ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে।

৫. খাবার ও পানির পাত্র পরিষ্কার রাখুন

একাধিক ছাগল একই পাত্র ব্যবহার করলে নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার।

৬. খামারে অপ্রয়োজনীয় লোকজনের প্রবেশ কমান

বাজার, অন্য খামার বা অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে ফিরে এসে সরাসরি নিজের পালে গেলে রোগের জীবাণু খামারে ঢোকার ঝুঁকি থাকে।

৭. অসুস্থ ছাগল বিক্রি করবেন না

অসুস্থ প্রাণী বাজারে নিয়ে গেলে শুধু অন্য খামারের ক্ষতি নয়, নিজের এলাকার ছাগল পালেও রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৮. মৃত প্রাণী নিয়ে অবহেলা করবেন না

হঠাৎ মৃত্যু হলে মৃত ছাগল যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবেন না। রোগের ধরন অনুযায়ী মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় পশু চিকিৎসক বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।

ধরুন, একটি খামারে ২০টি ছাগল আছে। সকালে একটি ছাগলকে দেখা গেল খেতে চাইছে না এবং নাক দিয়ে স্রাব পড়ছে। খামারি ভাবলেন, ‘সামান্য ঠান্ডা হয়েছে।’

ছাগলটিকে আলাদা না করে আগের মতোই একই জায়গায় রাখা হলো। দুই-তিন দিন পর আরও কয়েকটি ছাগল খাওয়া কমিয়ে দিল। এরপর শুরু হলো জ্বর, মুখে ক্ষত ও ডায়রিয়া।

এখানে প্রথম ভুলটি ছিল রোগের নাম না জানা নয়; প্রথম ভুল ছিল অসুস্থ প্রাণীকে আলাদা না করা।

খামারে রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সিদ্ধান্ত অনেক সময় ওষুধের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগে খামারির সাধারণ ভুল

ভুল ১: সব জ্বরকে ‘সাধারণ জ্বর’ ভাবা

জ্বর নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। জ্বরের সঙ্গে মুখে ক্ষত, ডায়রিয়া, নাক দিয়ে স্রাব বা শ্বাসকষ্ট থাকলে সংক্রামক রোগের কথা ভাবতে হবে।

ভুল ২: নিজের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া

ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। প্রয়োজন থাকলে পশুচিকিৎসক দ্বিতীয়িক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য তা দিতে পারেন।

ভুল ৩: অসুস্থ ছাগলকে হাটে নিয়ে যাওয়া

এতে রোগ অন্য খামার ও প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ভুল ৪: নতুন ছাগল কিনেই পালে মিশিয়ে দেওয়া

নতুন প্রাণী সুস্থ দেখালেও সবসময় সংক্রমণমুক্ত—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভুল ৫: টিকা নিয়ে অবহেলা

রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

কখন দ্রুত পশুচিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা গেলে দেরি না করে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন—

  • হঠাৎ জ্বর
  • একাধিক ছাগল একই সময়ে অসুস্থ হওয়া
  • মুখে ঘা বা ক্ষত
  • নাক ও চোখ দিয়ে অতিরিক্ত স্রাব
  • তীব্র ডায়রিয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • শরীরে গুটি
  • খোঁড়ানো বা পায়ে ক্ষত
  • দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়া
  • অস্বাভাবিক মৃত্যু

বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক ছাগল অসুস্থ হলে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত প্রাণীর সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো পালের রোগের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করুন।

ছাগলের মুখে ঘা, ডায়রিয়া, নাক দিয়ে স্রাব বা শরীরে গুটি—এসব লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগের নাম নিশ্চিত করা উচিত নয়।

কারণ ভাইরাস ছাড়াও ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য সমস্যায় কাছাকাছি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সঠিক

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ কী কী?

ছাগলের গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে পিপিআর, গোট পক্স ও অরফ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ক্ষুরা রোগও ছাগলসহ বিভিন্ন খুরযুক্ত প্রাণীকে আক্রান্ত করতে পারে।

পিপিআর হলে ছাগল কি মারা যেতে পারে?

হ্যাঁ। পিপিআর গুরুতর রোগ হতে পারে এবং আক্রান্ত ছাগলের বয়স, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টি ও ব্যবস্থাপনার ওপর ফলাফল নির্ভর করে।

ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যায়?

অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। তবে দ্বিতীয়িক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থাকলে পশুচিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

রোগভেদে ব্যবস্থা আলাদা হলেও টিকাদান, নতুন প্রাণী পর্যবেক্ষণ, অসুস্থ প্রাণী আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খামারে জীবাণুনিরাপত্তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অরফ কি মানুষের হতে পারে?

হ্যাঁ। অরফ একটি zoonotic রোগ, অর্থাৎ আক্রান্ত ছাগল থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। তাই আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষত ধরার সময় সতর্কতা ও হাতের সুরক্ষা জরুরি।

ছাগলের শরীরে গুটি হলে কী করব?

গুটি দেখেই গোট পক্স ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আক্রান্ত ছাগলকে আলাদা রাখুন এবং পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে রোগের কারণ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করুন।

একটি ছাগল অসুস্থ হলে কি অন্যগুলোকে আলাদা করতে হবে?

অন্তত অসুস্থ ছাগলটিকে দ্রুত আলাদা করা উচিত। রোগ সংক্রামক বলে সন্দেহ হলে পুরো পালের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে খামারির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আগে থেকে প্রস্তুতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত। রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় ক্ষতি সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

তাই সুস্থ ছাগলের জন্য নিয়মিত টিকাদান, পরিষ্কার পরিবেশ, নতুন প্রাণীর পর্যবেক্ষণ এবং অসুস্থ ছাগল দ্রুত আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর পালে একসঙ্গে একাধিক ছাগল অসুস্থ হলে অপেক্ষা না করে পশুচিকিৎসকের সহায়তা নিন।

মনে রাখবেন—একটি ছাগলকে দ্রুত আলাদা করার সিদ্ধান্ত কখনো কখনো পুরো পালকে বাঁচাতে পারে।

-ইজাজ আহমেদ, এএসভিএম, মাভাবিপ্রবি

Author

Ijaj Ahmed

Follow Me
Other Articles
পরিষ্কার ও উঁচু মাচায় তৈরি ছাগলের ঘর
Previous

ছাগলের ঘর তৈরির নিয়ম: কম খরচে ভালো ঘর করার উপায়

Recent Posts

  • ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ: পিপিআর, গোট পক্স ও অরফের লক্ষণ
  • ছাগলের ঘর তৈরির নিয়ম: কম খরচে ভালো ঘর করার উপায়
  • ছাগলের খামার ডিজাইন: কম খরচে স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক শেড তৈরি
  • কোন জাতের ছাগল পালন সবচেয়ে লাভজনক? বাংলাদেশে লাভের জন্য সেরা ছাগলের জাত
  • ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন: লাভজনক খামার কিভাবে গড়বেন?

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ
ছাগল পালন

ছাগলের ভাইরাসজনিত রোগ: পিপিআর, গোট পক্স ও অরফের লক্ষণ

Ijaj Ahmed
27/08/2026
পরিষ্কার ও উঁচু মাচায় তৈরি ছাগলের ঘর
ছাগল পালন

ছাগলের ঘর তৈরির নিয়ম: কম খরচে ভালো ঘর করার উপায়

Ijaj Ahmed
27/08/2026
বাংলাদেশে ছাগলের খামারের আধা-খোলা মাচার শেড ডিজাইন
ছাগল পালন

ছাগলের খামার ডিজাইন: কম খরচে স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক শেড তৈরি

Ijaj Ahmed
23/08/2026
বাংলাদেশে লাভজনক ছাগলের জাত ব্ল্যাক বেঙ্গল জামুনাপাড়ি ও বোয়ার
ছাগল পালন

কোন জাতের ছাগল পালন সবচেয়ে লাভজনক? বাংলাদেশে লাভের জন্য সেরা ছাগলের জাত

Ijaj Ahmed
23/08/2026
বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন
ছাগল পালন

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন: লাভজনক খামার কিভাবে গড়বেন?

Ijaj Ahmed
15/08/2026
১–৫টি ছাগল দিয়ে খামার শুরু করার বাংলাদেশি ছোট খামার
ছাগল পালন

মাত্র ৫টি ছাগল দিয়ে খামার: খরচ, খাবার, ঘর ও লাভের হিসাব

Ijaj Ahmed
09/08/2026

Archives

  • August 2026
  • July 2026
  • June 2026
  • October 2025
  • September 2025
  • August 2025
  • July 2025
  • June 2025
  • May 2025
  • April 2025
  • March 2025

Categories

  • Blog
  • Featured
  • আন্তর্জাতিক খবর
  • খামার ব্যবস্থাপনা
  • খামারি কথা
  • গরু
  • গরু পালন
  • চাকরির খবর
  • ছাগল পালন
  • ছাত্র-ছাত্রী খবর
  • দিবস
  • প্রশাসনিক খবর
  • বিজ্ঞান
  • বিড়াল
  • ব্যবসা-বানিজ্য
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • মুরগি পালন
  • রোগব্যাধি
  • সারাদেশ

ডেইলি লাইভস্টক

সময়ের সাথে, প্রাণিসম্পদ এর পাশে
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • সার্কুলেশন
  • নীতি ও শর্ত
  • যোগাযোগ
  • সম্পাদকীয় নীতিমালা

প্রাণিস্বাস্থ্য

বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক

প্রকাশক- ডা. মো. রায়হান নবী

সম্পাদক- ইজাজ আহমেদ

  • রোগব্যাধি
কপিরাইট 2026 — ডেইলি লাইভস্টক । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত