Skip to content
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • https://www.facebook.com/
  • https://twitter.com/
  • https://t.me/
  • https://www.instagram.com/
  • https://youtube.com/
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
Subscribe
Close

Search

Home/পোষা প্রাণী/বিড়াল/বিড়ালের ফ্লু চেনার উপায় ও চিকিৎসা – Cat Flu
বিড়ালের ফ্লুর লক্ষণ নাক দিয়ে পানি পড়া

বিড়ালের ফ্লু চেনার উপায় ও চিকিৎসা – Cat Flu

07/09/2026 6 Min Read

বিড়ালের ফ্লু (Cat Flu) মূলত ফেলাইন হার্পিসভাইরাস ও ফেলাইন ক্যালিসিভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া একটি সংক্রামক শ্বাসতন্ত্রের রোগ। হাঁচি, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, জ্বর ও খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা ও নিয়মিত টিকা দিয়ে এই রোগ সহজেই প্রতিরোধযোগ্য।

কেন এই সমস্যা হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে

বিড়ালের ফ্লু নিয়ে বিভ্রান্তির প্রধান কারণ হলো—এর লক্ষণ মানুষের সর্দি-কাশির সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়, ফলে মালিকরা বুঝতে পারেন না এটি কতটা গুরুতর হতে পারে। রাস্তার বিড়াল থেকে সদ্য আনা বিড়াল, একাধিক বিড়াল একসঙ্গে রাখা ক্যাটারি বা শেল্টার, টিকাবিহীন বাচ্চা বিড়াল এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বয়স্ক বিড়াল—এরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

দরজা খুলতেই মিনু ছুটে এসে পায়ে গা ঘষল—রোজকার অভ্যাস। কিন্তু আজ ওর আওয়াজটা কেমন যেন ভাঙা ভাঙা। রাশেদা বেগম খেয়াল করলেন, বিড়ালটার নাক দিয়ে পানি পড়ছে, চোখ দুটো আধা বোজা, আর সবচেয়ে চিন্তার বিষয়—সকাল থেকে একদানা খাবারও মুখে তোলেনি। প্রতিবেশীরা বললেন, “সর্দি-জ্বর হয়েছে, এমনিই সেরে যাবে।” রাশেদা বেগম প্রথমে বিশ্বাসও করেছিলেন। কিন্তু দুদিন পর মিনু যখন উঠে দাঁড়াতেই পারছিল না, তখন বুঝলেন—এটা সাধারণ সর্দি নয়।

এই দৃশ্যটা বাংলাদেশের হাজারো বিড়াল-পালনকারী পরিবারে খুবই পরিচিত। বিড়ালের ফ্লুকে মানুষ প্রায়ই সাধারণ ঠান্ডা-লাগা ভেবে অবহেলা করেন, অথচ চিকিৎসা না পেলে বিশেষ করে বাচ্চা বা বয়স্ক বিড়ালের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

বিড়ালের ফ্লু আসলে কী

“বিড়ালের ফ্লু” বলতে সাধারণত বোঝানো হয় ফেলাইন আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন—অর্থাৎ বিড়ালের উপরের শ্বাসতন্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ। এটি মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ নয়, বরং প্রধানত দুটি ভাইরাসের কারণে হয়—ফেলাইন হার্পিসভাইরাস-১ (FHV-1) এবং ফেলাইন ক্যালিসিভাইরাস (FCV)। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া যেমন ক্ল্যামাইডোফিলা ফেলিস বা বোর্ডেটেলা ব্রঙ্কিসেপ্টিকাও এতে যুক্ত হয়ে অবস্থা জটিল করে তোলে।

এই ভাইরাসগুলো বিড়ালের নাক, গলা ও চোখের আবরণে সংক্রমণ ঘটায়। আক্রান্ত বিড়ালের হাঁচি, লালা বা চোখ-নাকের স্রাবের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। একসঙ্গে অনেক বিড়াল থাকলে, বাসনপত্র ভাগাভাগি করলে বা সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ফেলাইন হার্পিসভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে ভাইরাসটি সেরে যাওয়ার পরও বিড়ালের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়, আর মানসিক চাপ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে তা আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন

  • ঘন ঘন হাঁচি
  • নাক দিয়ে পানি বা ঘন সর্দি পড়া
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ আধা বোজা থাকা
  • জ্বর ও ঝিমুনি ভাব
  • খাওয়ায় অনীহা (ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ায় খাবারে আগ্রহ হারায়)
  • মুখে ঘা বা লালা ঝরা (বিশেষত ক্যালিসিভাইরাসের ক্ষেত্রে)
  • গলার স্বর পরিবর্তন বা কর্কশ ডাক

বিড়ালের ফ্লু মূলত ভাইরাসজনিত হওয়ায় এর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা সাধারণত ব্যবহার করা হয় না; চিকিৎসা মূলত সহায়ক (সাপোর্টিভ কেয়ার) ভিত্তিক।

  • সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।
  • নাক-চোখ পরিষ্কার রাখা—হালকা গরম পানিতে ভেজানো তুলো দিয়ে আলতোভাবে মুছে দিন।
  • তরল ও পুষ্টি বজায় রাখা—খাওয়ায় অনীহা থাকলে গন্ধযুক্ত নরম খাবার বা সামান্য গরম করা খাবার দিলে ঘ্রাণে আগ্রহ ফিরতে পারে।
  • নিরাপদ, উষ্ণ ও চাপমুক্ত পরিবেশ দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, কারণ মানসিক চাপ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায়।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে, বিশেষত শ্বাসকষ্ট বা খাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে, হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় তরল ও অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

জৈব নিরাপত্তা (Biosecurity): আক্রান্ত বিড়ালকে অন্তত ১০-১৪ দিন সুস্থ বিড়াল থেকে আলাদা রাখুন। ব্যবহৃত থালাবাসন, বিছানা আলাদা রাখুন এবং জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে নেবেন: শ্বাসকষ্ট, ২৪ ঘণ্টার বেশি খাওয়া বন্ধ, তীব্র ঝিমুনি, বা বাচ্চা/বয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে পশুচিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

চিকিৎসা:

বিড়ালের ফ্লু চিকিৎসায় কোনো “ম্যাজিক ওষুধ” নেই—এটি মূলত ধাপে ধাপে সহায়ক চিকিৎসা (সাপোর্টিভ কেয়ার) ও উপসর্গভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়। নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। যেকোনো ওষুধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন—এই তথ্য শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য, স্ব-চিকিৎসার জন্য নয়।

ধাপ ১: রোগ নির্ণয় (Diagnosis)

  • পশুচিকিৎসক সাধারণত ক্লিনিক্যাল লক্ষণ (হাঁচি, নাক-চোখের স্রাব, জ্বর, মুখের ঘা) দেখেই প্রাথমিক নির্ণয় করেন।
  • জটিল বা বারবার ফিরে আসা কেসে ল্যাবরেটরি টেস্ট (PCR) করে নির্দিষ্ট ভাইরাস (FHV-1/FCV) শনাক্ত করা যায়, তবে বাংলাদেশে এই সুবিধা মূলত ঢাকার বড় প্রাণী হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ডায়াগনস্টিক ল্যাবে সীমিত আকারে পাওয়া যায়।
  • শরীরের তাপমাত্রা, ওজন ও পানিশূন্যতার মাত্রা পরীক্ষা করে চিকিৎসার তীব্রতা নির্ধারণ করা হয়।

ধাপ ২: হালকা উপসর্গের ক্ষেত্রে বাড়িতে যত্ন

  • নাক-চোখ পরিষ্কার রাখা: কুসুম গরম পানিতে ভেজানো পরিষ্কার তুলো/গজ দিয়ে দিনে ২-৩ বার আলতোভাবে মুছে দিন।
  • স্টিম/নেবুলাইজেশন: বাথরুমে গরম পানির ভাপ নিয়ে কিছুক্ষণ বিড়ালকে রাখলে বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে স্যালাইন নেবুলাইজেশন পশুচিকিৎসকের নির্দেশনায় দেওয়া যায়।
  • খাওয়ানো: ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ায় বিড়াল খেতে চায় না—হালকা গরম করা, শক্তিশালী গন্ধযুক্ত নরম খাবার (যেমন সেদ্ধ মাছ/মুরগি ভর্তা) দিলে আগ্রহ বাড়ে।
  • পানিশূন্যতা রোধ: সবসময় বিশুদ্ধ পানি সহজলভ্য রাখুন; সিরিঞ্জ দিয়ে সামান্য পরিমাণে পানি বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন খাওয়ানো যেতে পারে, ভেটের পরামর্শ নিয়ে।

ধাপ ৩: পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা

বাংলাদেশে সাধারণত নিম্নোক্ত শ্রেণির ওষুধ পশুচিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করে থাকেন (ডোজ ও মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে বিড়ালের ওজন, বয়স ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাই এখানে নির্দিষ্ট ডোজ উল্লেখ করা হচ্ছে না):

  • অ্যান্টিবায়োটিক: সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন নিউমোনিয়া বা চোখের ঘা পুঁজে পরিণত হওয়া) ঠেকাতে অ্যামোক্সিসিলিন-ক্লাভুলানেট বা ডক্সিসাইক্লিন গোত্রের ওষুধ প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। এগুলো শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দিতে হবে।
  • চোখের ড্রপ/অয়েন্টমেন্ট: কনজাংটিভাইটিসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ (যেমন টেরামাইসিন আই অয়েন্টমেন্ট) ব্যবহৃত হতে পারে।
  • অ্যান্টিভাইরাল/সাপ্লিমেন্ট: এল-লাইসিন সাপ্লিমেন্ট কিছু ক্ষেত্রে হার্পিসভাইরাসের প্রকোপ কমাতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণায় মিশ্র ফল পাওয়া গেছে।
  • ব্যথা/জ্বর কমানোর ওষুধ: শুধুমাত্র বিড়ালের জন্য নিরাপদ, ভেট-নির্ধারিত ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। মানুষের প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ বিড়ালের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত—কখনোই নিজে থেকে দেবেন না।
  • ভিটামিন ও ইমিউন সাপোর্ট: দুর্বল বিড়ালের জন্য মাল্টিভিটামিন বা ইমিউন-বুস্টিং সাপ্লিমেন্ট ভেটের পরামর্শে দেওয়া যেতে পারে।

ধাপ ৪: গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি

  • তীব্র পানিশূন্যতা, একেবারে খাওয়া বন্ধ, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় (IV) তরল, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং প্রয়োজনে নাকে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে পুষ্টি দেওয়া হতে পারে।
  • এই ধরনের সুবিধা বাংলাদেশে মূলত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরের প্রাণিসম্পদ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচিং হাসপাতাল বা উন্নত প্রাইভেট পেট ক্লিনিকে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে চিকিৎসা কোথায় পাবেন

  • সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল/উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল: প্রাথমিক পরীক্ষা ও সাধারণ চিকিৎসার জন্য তুলনামূলক কম খরচে সেবা পাওয়া যায়।
  • প্রাইভেট পেট হাসপাতাল/ক্লিনিক: ভর্তি রেখে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং, IV থেরাপি ও জরুরি সেবার সুবিধা থাকে। প্রাইভেট পেট ক্লিনিকগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জ এ- অন্যতম হলো Pet Life Vet 360

আনুমানিক খরচ (প্রাথমিক ধারণা)

  • সাধারণ পরামর্শ ও পরীক্ষা: প্রায় ৩০০-৮০০ টাকা (ক্লিনিকভেদে ভিন্ন হতে পারে)
  • ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক, আই ড্রপ ইত্যাদি): প্রায় ৫০০-১৫০০ টাকা, কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী
  • জটিল কেসে ভর্তি/IV থেরাপি: হাসপাতালভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে

সাধারণ ভুলগুলো যা এড়ানো উচিত

  • “এমনিই সেরে যাবে” ভেবে অপেক্ষা করা — বিশেষ করে বাচ্চা বিড়ালের ক্ষেত্রে এই দেরি বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ দ্রুত পানিশূন্যতা ও নিউমোনিয়া হতে পারে।
  • মানুষের ঠান্ডার ওষুধ বিড়ালকে খাওয়ানো — অনেক মানব ওষুধ বিড়ালের জন্য বিষাক্ত।
  • আক্রান্ত বিড়ালকে অন্য বিড়ালদের সঙ্গে রাখা — এতে পুরো পরিবার বা শেল্টারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
  • টিকা না দেওয়া — টিকা রোগ সম্পূর্ণ ঠেকাতে না পারলেও লক্ষণের তীব্রতা অনেক কমিয়ে দেয়।
  • সেরে ওঠার পর সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া — হার্পিসভাইরাস শরীরে থেকে যেতে পারে এবং চাপের সময় পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।

টিপস:

নতুন বিড়াল বাড়িতে আনার পর অন্তত দুই সপ্তাহ আলাদা রাখুন (কোয়ারেন্টিন), বিশেষত বাড়িতে আগে থেকে অন্য বিড়াল থাকলে। এতে অজান্তে কোনো সংক্রমণ থাকলেও তা পুরো বাড়িতে ছড়ানোর আগেই ধরা পড়ে।

প্রতিরোধ: টিকা ও নিয়মিত যত্ন

  • বাচ্চা বিড়ালকে সঠিক সময়ে (সাধারণত ৮-৯ সপ্তাহ বয়স থেকে শুরু করে) মূল টিকার (কোর ভ্যাকসিন) সিরিজ সম্পন্ন করান, যা FHV-1 ও FCV উভয়কেই কভার করে।
  • বছরে একবার বুস্টার টিকা দেওয়ার পরামর্শ সাধারণত পশুচিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন—আপনার এলাকার ভেটের সঙ্গে সময়সূচি ঠিক করে নিন।
  • একাধিক বিড়াল থাকলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলাদা থালাবাসন ও পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন।
  • মানসিক চাপ কমান—হঠাৎ পরিবেশ বদল, অতিরিক্ত জনসমাগম বা অন্য প্রাণীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলুন।

এক কথায়ঃ

বিড়ালের ফ্লু-কে সাধারণ সর্দি ভেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই—সময়মতো লক্ষণ চিনে ব্যবস্থা নিলে এটি সহজেই সামলানো সম্ভব, কিন্তু দেরি হলে বিশেষত বাচ্চা ও বয়স্ক বিড়ালের জন্য তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। নিয়মিত টিকাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নতুন বিড়াল আনার সময় সতর্কতা—এই তিনটি অভ্যাসই আপনার বিড়ালকে এই রোগ থেকে বহুলাংশে সুরক্ষিত রাখতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন:

Q: বিড়ালের ফ্লু কি মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে?

A: না, বিড়ালের ফ্লুর ভাইরাসগুলো (FHV-1, FCV) মানুষে সংক্রমিত হয় না। এটি শুধু বিড়াল থেকে বিড়ালে ছড়ায়।

Q: বিড়ালের ফ্লু সারতে কত সময় লাগে?

A: সাধারণত সঠিক যত্নে ৭-১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে আসে, তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে এবং ভাইরাস শরীরে সুপ্ত থেকে যেতে পারে।

Q: টিকা দেওয়া বিড়ালেরও কি ফ্লু হতে পারে?

A: হ্যাঁ, টিকা সব ধরনের স্ট্রেন সম্পূর্ণ ঠেকাতে পারে না, তবে টিকা দেওয়া বিড়ালের ক্ষেত্রে লক্ষণ সাধারণত অনেক হালকা হয়।

Q: বাড়িতে কোনো ওষুধ দেওয়া কি নিরাপদ?

A: পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ, বিশেষত মানুষের ওষুধ, বিড়ালকে দেওয়া উচিত নয়—এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

-ইজাজ আহমেদ, মাভাবিপ্রবি

Tags:

ক্যাট ফ্লু চিকিৎসাফেলাইন ক্যালিসিভাইরাসফেলাইন হার্পিসভাইরাসবিড়ালের চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়াবিড়ালের টিকাবিড়ালের শ্বাসতন্ত্রের রোগবিড়ালের সর্দিবিড়ালের হাঁচি
Author

Ijaj Ahmed

Follow Me
Other Articles
ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়ায় আক্রান্ত দুর্বল বিড়ালছানা চিকিৎসাধীন
Previous

ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়া এর চিকিৎসা: এ টু জেড গাইড- Feline Panleukopenia or Feline Distemper

Next

মাভাবিপ্রবি ভেটেরিনারি অনুষদের ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন । ACME Laboratories Ltd.

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

You must be logged in to post a comment.

Recent Posts

  • গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না
  • গরুর খামারের বায়োসিকিউরিটি: টিকা-ওষুধের আগে যে প্রতিরক্ষা আপনার খামারের প্রয়োজন
  • অসুস্থ গরু চেনার উপায়: সকালের ৫ মিনিটের পরীক্ষায় ধরা পড়ে রোগের প্রথম ইঙ্গিত
  • হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান: বিশ্বসেরা দুধেল জাত বাংলাদেশের খামারে কতটা টিকবে?
  • গরুর দৈনিক কত খাবার লাগবে: বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বাংলাদেশি খামারির বাস্তব অভিজ্ঞতা

গোয়ালে ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে গরুর জ্বর মাপছেন পশু চিকিৎসক
গরু পালন

গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না

Ijaj Ahmed
19/10/2026
খামারে ঢোকার আগে ফুটবাথ: বায়োসিকিউরিটির প্রথম ও সবচেয়ে সহজ ধাপ
গরু পালন

গরুর খামারের বায়োসিকিউরিটি: টিকা-ওষুধের আগে যে প্রতিরক্ষা আপনার খামারের প্রয়োজন

Ijaj Ahmed
28/09/2026
সকালে গোয়ালে গরুর চোখ ও নাক পরীক্ষা করছেন একজন বাংলাদেশি খামারি
গরু পালন

অসুস্থ গরু চেনার উপায়: সকালের ৫ মিনিটের পরীক্ষায় ধরা পড়ে রোগের প্রথম ইঙ্গিত

Ijaj Ahmed
28/09/2026
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা দুধেল গাভী বাংলাদেশের খামারে
গরু পালন

হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান: বিশ্বসেরা দুধেল জাত বাংলাদেশের খামারে কতটা টিকবে?

Ijaj Ahmed
25/09/2026
গরুকে কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হচ্ছে
গরু পালন

গরুর দৈনিক কত খাবার লাগবে: বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বাংলাদেশি খামারির বাস্তব অভিজ্ঞতা

Ijaj Ahmed
24/09/2026
মিনারেল মিক্স
গরু পালন

মিনারেল মিক্স: গরু-ছাগলের দুধ, বাচ্চা আর স্বাস্থ্য—সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য নায়ক

Ijaj Ahmed
24/09/2026

Archives

  • October 2026
  • September 2026
  • August 2026
  • July 2026
  • October 2025
  • September 2025
  • August 2025
  • July 2025
  • June 2025
  • May 2025
  • April 2025
  • March 2025

Categories

  • Blog
  • Featured
  • আন্তর্জাতিক খবর
  • খামার ব্যবস্থাপনা
  • খামারি কথা
  • গরু
  • গরু পালন
  • চাকরির খবর
  • ছাগল পালন
  • ছাত্র-ছাত্রী খবর
  • দিবস
  • প্রশাসনিক খবর
  • বিজ্ঞান
  • বিড়াল
  • ব্যবসা-বানিজ্য
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • মুরগী পালন
  • রোগব্যাধি
  • সারাদেশ

ডেইলি লাইভস্টক

সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • সার্কুলেশন
  • নীতি ও শর্ত
  • যোগাযোগ
  • সম্পাদকীয় নীতিমালা

প্রাণিস্বাস্থ্য

বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক

রোগব্যাধি

পশুপালন

  • প্রকাশক- ডা. মো. রায়হান নবী
  • সম্পাদক- ইজাজ আহমেদ
©কপিরাইট 2026 — ডেইলি লাইভস্টক । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত