Skip to content
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • https://www.facebook.com/
  • https://twitter.com/
  • https://t.me/
  • https://www.instagram.com/
  • https://youtube.com/
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
Subscribe
Close

Search

Home/পশুপালন/গরু পালন/গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না
গোয়ালে ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে গরুর জ্বর মাপছেন পশু চিকিৎসক

গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না

19/10/2026 7 Min Read
  • সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গরুর শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৮.০–৩৯.৩°C (১০০.৪–১০২.৮°F)। এর ওপরে উঠলে সতর্ক হতে হবে।
  • জ্বর নিজে রোগ নয়, রোগের সংকেত। আসল কাজ হলো কারণ খুঁজে বের করা।
  • জ্বরের সঙ্গে খাওয়া বন্ধ, শ্বাসকষ্ট, গলা বা শরীরে ফোলা, অথবা মুখ ও পায়ে ঘা থাকলে দেরি না করে ডাক্তার ডাকুন।
  • ভাইরাসজনিত জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, তাই নিজে নিজে ওষুধ দেওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।

কেন এই জ্বর এত বিভ্রান্তি তৈরি করে

গরু কথা বলতে পারে না। অসুখ ধরা পড়ে আচরণ আর শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনে। তাই খামারি অনেক সময় বুঝতেই পারেন না, এটা সামান্য গরমের ধকল, না কি ভয়ংকর কোনো রোগের শুরু।

বাংলাদেশে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে তিনটি কারণে:

  • আমাদের জলবায়ু আর্দ্র ও গরম, তাই গরমের ধকল আর সংক্রামক রোগের জ্বর প্রায় একই রকম দেখায়।
  • মশা-মাছি, আঠালি, ডাঁশ মিলিয়ে রোগবাহী পোকার চাপ সারা বছরই থাকে।
  • গ্রামে অনেকেই কাছের “ডাক্তার”কে ডেকে দ্রুত সুই দেওয়ান। অথচ কারণ না জেনে দেওয়া ওষুধ রোগ ঢেকে দেয় কিন্তু সারায় না।

১. গরুর জ্বর কত ডিগ্রি থেকে ধরা হয়

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গরুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৮.০–৩৯.৩°C। বাছুরের তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকতে পারে। ৩৯.৫°C-এর ওপরে উঠলে জ্বর ধরা হয়। ৪০°C বা তার বেশি হলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হাত দিয়ে গা ছুঁয়ে জ্বর বোঝা নির্ভরযোগ্য নয়। গরমের দুপুরে সুস্থ গরুর গাও গরম লাগে। আবার দুর্বল, রক্তশূন্য গরুর জ্বর থাকলেও গা তত গরম লাগে না।

কীভাবে মাপবেন:

  1. একটি ডিজিটাল থার্মোমিটার নিন, শুধু গবাদিপশুর জন্য আলাদা রাখুন।
  2. ডগায় সামান্য ভ্যাসেলিন বা তেল মাখান।
  3. গরুকে শান্ত রেখে লেজ তুলে পায়ুপথে আলতো করে ঢুকিয়ে ১–২ মিনিট ধরে রাখুন।
  4. শব্দ হলে বা রিডিং স্থির হলে বের করে লিখে রাখুন।

সাধারণ ভুল: রোদে দাঁড়ানো বা এইমাত্র হাঁটানো গরুর তাপমাত্রা মেপে ফেলা। এতে রিডিং সাময়িকভাবে বেশি আসে। ছায়ায় ৩০ মিনিট বিশ্রামের পর আবার মাপুন।

বিশেষজ্ঞের টিপ: একটা ছোট খাতায় প্রতিটি গরুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা লিখে রাখুন। সুস্থ অবস্থার রিডিং জানা থাকলে অসুস্থতার রিডিং অনেক বেশি অর্থবহ হয়।

২. বাংলাদেশে গরুর জ্বরের প্রধান কারণ

জ্বর একটাই, কিন্তু পেছনের কারণ অনেক। নিচের ছকটি শুরুর ধারণা দেবে। চূড়ান্ত রোগনির্ণয় অবশ্যই পশু চিকিৎসকের কাজ।

সম্ভাব্য কারণজ্বরের সঙ্গে সাধারণত যা দেখা যায়সংক্রামক?
গরমের ধকল (হিট স্ট্রেস)হাঁপানো, লালা ঝরা, ছায়া খোঁজা, বেশি পানি পাননা
নিউমোনিয়াকাশি, নাক দিয়ে সর্দি, দ্রুত শ্বাসহ্যাঁ
বাঁটের প্রদাহ (ম্যাস্টাইটিস)বাঁট ফোলা ও শক্ত, দুধে ছানা বা রক্তসাধারণত একটি গরু
প্রসবের পর জরায়ুর সংক্রমণদুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, দুধ কমে যাওয়ানা
বাছুরের নাভি পচানাভি ফোলা, বাছুর নেতিয়ে পড়াকিছু ক্ষেত্রে
ক্ষুরারোগ (FMD)মুখে-পায়ে ফোসকা, লালা, খোঁড়ানোঅত্যন্ত সংক্রামক
লাম্পি স্কিন (LSD)গায়ে শক্ত গোটা, ফোলা, চামড়ার ক্ষতহ্যাঁ, পোকামাকড়ের মাধ্যমে
গলাফুলা (HS)গলা ও থুতনি ফোলা, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত অবনতিখুব বিপজ্জনক
তিন দিনের জ্বর (BEF)হঠাৎ জ্বর, শরীর শক্ত, খোঁড়ানো, কয়েক দিনে সেরে যেতে পারেহ্যাঁ, পোকামাকড়ের মাধ্যমে
রক্তপরজীবী রোগ (বেবেসিওসিস, থাইলেরিওসিস, ট্রিপানোসোমিয়াসিস)ঘন ঘন জ্বর, ফ্যাকাশে বা হলদে চোখের পাতা, দুর্বলতাআঠালি ও রক্তচোষা মাছির মাধ্যমে

কেন এটা জানা জরুরি: কারণ ভিন্ন হলে চিকিৎসাও ভিন্ন। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে। ভাইরাসজনিত ক্ষুরারোগ বা LSD-তে অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি ভাইরাস মারে না। সেখানে সহায়ক চিকিৎসা আর দ্বিতীয় সংক্রমণ ঠেকানোই মূল কাজ। রক্তপরজীবীতে লাগে পরজীবীনাশক ওষুধ।

সাম্প্রতিক সংবাদে কুড়িগ্রাম ও জয়পুরহাটে লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ার এবং কয়েক মাস ধরে বেশ কিছু গরুর মৃত্যুর খবর এসেছে। WOAH-এর তথ্যমতে এই রোগে জ্বর ৪১°C ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং দুধ উৎপাদন কমে যায় (WOAH এশিয়া অঞ্চলের LSD পোস্টার). বিশ্বখ্যাত Merck Veterinary Manual-এ লক্ষণ হিসেবে জ্বর, চোখ থেকে পানি পড়া, অতিরিক্ত লালা এবং চামড়ায় গুটি উল্লেখ আছে (Merck Veterinary Manual: Lumpy Skin Disease in Cattle). তাই এখন জ্বরের সঙ্গে গায়ে গোটা বা ফোলা দেখলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

৩. প্রথম ২৪ ঘণ্টায় খামারে কী করবেন

ডাক্তার আসার আগের সময়টা মূল্যবান। এই সময়ে সঠিক কাজ গরুর অবস্থা অনেক সামলে দিতে পারে।

করণীয়:

  1. আলাদা করুন। অসুস্থ গরুকে সুস্থদের থেকে আলাদা জায়গায় রাখুন। কারণ না জানা পর্যন্ত ধরে নিন রোগটি ছোঁয়াচে হতে পারে।
  2. ছায়া ও বাতাস নিশ্চিত করুন। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন, প্রয়োজনে ফ্যান দিন। আর্দ্র আবহাওয়ায় শুধু ফ্যানই অনেক সময় বড় স্বস্তি দেয়।
  3. পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি রাখুন। জ্বরে শরীর থেকে পানি দ্রুত কমে। গরু নিজে না খেলে অল্প অল্প করে পানি ও খাবার স্যালাইন দেওয়ার চেষ্টা করুন।
  4. শরীর ভেজা কাপড়ে মুছুন। গরমের ধকলে শরীর ঠান্ডা করতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা সামান্য ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। বরফঠান্ডা পানি একসঙ্গে ঢালবেন না, এতে শরীর ধাক্কা খেতে পারে।
  5. খাবার হালকা রাখুন। কচি ঘাস, নরম খড়, সহজপাচ্য খাবার দিন। বেশি দানাদার খাবার এই সময় পেটের সমস্যা বাড়াতে পারে।
  6. তথ্য গুছিয়ে রাখুন। তাপমাত্রা, কখন থেকে খাওয়া কমেছে, দুধ কত কমেছে, গোবর কেমন, নতুন গরু কিনেছেন কি না, আশপাশে অন্য গরু অসুস্থ কি না। ডাক্তারের জন্য এই তথ্য অমূল্য।
  7. প্রাণিসম্পদ অফিস বা পশু চিকিৎসককে খবর দিন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সবচেয়ে কাছের সরকারি সেবাকেন্দ্র।

সতর্কতা বক্স: যে গরু হঠাৎ মারা গেছে, বিশেষত যার নাক-মুখ-পায়ু দিয়ে কালচে রক্ত বেরিয়েছে, সেই মৃতদেহ কাটাকাটি বা চামড়া ছাড়ানো একদম নয়। এটি অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ হতে পারে, যা মানুষের জন্যও প্রাণঘাতী। দ্রুত প্রাণিসম্পদ অফিসে জানান।

সাধারণ ভুল: জ্বরের গরুকে জোর করে গিলিয়ে খাওয়ানো। শ্বাসকষ্ট বা দুর্বল গরুর ক্ষেত্রে এতে ফুসফুসে খাবার বা পানি ঢুকে যেতে পারে।

৪. কখন এক মুহূর্তও দেরি নয়: লাল সংকেত

নিচের যেকোনো একটি দেখলে সেদিনই চিকিৎসক ডাকুন:

  • জ্বর ৪০°C বা তার বেশি।
  • জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, হাঁ করে শ্বাস নেওয়া বা গলা ফোলা।
  • দুদিনের বেশি খাওয়া বন্ধ বা জাবর কাটা একেবারে থেমে যাওয়া।
  • মুখে, জিভে, ক্ষুরের ফাঁকে ফোসকা বা ঘা।
  • শরীরে শক্ত গোটা, ফোলা বা চামড়ায় ক্ষত।
  • চোখের পাতা ফ্যাকাশে বা হলদে, অথবা প্রস্রাব কফির মতো গাঢ়।
  • বাছুরের ক্ষেত্রে নেতিয়ে পড়া বা দুধ না খাওয়া।
  • একসঙ্গে একাধিক গরু অসুস্থ হওয়া।

খামারে একটি গরু অসুস্থ হলে পুরো পালের জন্য সেটি এক রকম “আগাম সতর্কবার্তা”। সংক্রামক রোগে প্রথম গরুটির চিকিৎসার চেয়েও জরুরি হলো বাকিদের রক্ষা করা। এই কারণেই আলাদা করা, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগি না করা এত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ওষুধ নিয়ে সত্যি কথা

গ্রামে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শোনা যায়, তা হলো “কোন ইনজেকশন দিলে জ্বর নামবে?”

সত্যি হলো, জ্বর কমানোর ওষুধ আছে, কিন্তু সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা এবং সঠিক সময় নির্ভর করে গরুর ওজন, বয়স, গর্ভাবস্থা, দুধ দেওয়ার অবস্থা এবং রোগের কারণের ওপর। তাই এখানে কোনো মাত্রা লিখে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া:

  • মানুষের ওষুধ (প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন ইত্যাদি) অনুমান করে দেবেন না।
  • অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না। ভাইরাসে এটি কাজ করে না, উল্টে ভবিষ্যতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হয়।
  • স্টেরয়েড এড়িয়ে চলুন। এটি জ্বর ও ব্যথা চাপা দিয়ে আসল অবস্থা লুকিয়ে ফেলতে পারে, গর্ভবতী গাভীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিও আছে।

দুধ ও মাংসের নিরাপত্তা: অনেক ওষুধ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দুধ বা মাংস খাওয়া নিরাপদ নয়। একে বলে ওয়িথড্রয়াল পিরিয়ড। ডাক্তারের কাছ থেকে এই সময় জেনে নিন এবং মেনে চলুন। এটি জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ-প্রতিরোধ (AMR) রোধেও জরুরি।

পশু চিকিৎসক সাধারণত জ্বর নামানোর পাশাপাশি তরল ও লবণের ঘাটতি পূরণ, সন্দেহজনক কারণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ এবং প্রয়োজনে রক্ত বা অন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। রক্তপরজীবী সন্দেহ হলে রক্তের স্মিয়ার পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। ওষুধ “ধরে নিয়ে” নয়, রোগ নির্ণয় করে দিতে হয়।

আন্তর্জাতিক নির্দেশনা কী বলে: লাম্পি স্কিন সন্দেহ হলে WOAH প্রথমে ভেটেরিনারি সার্ভিসকে জানানো, বাকি পশু পরীক্ষা করা এবং আক্রান্ত পশুকে জ্বর কমানো, শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ ও দ্বিতীয় দফা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকানোর সহায়ক চিকিৎসা দিতে বলে। এই নির্দেশনার মূল কথা হলো, আগে খবর দিন, পরে সহায়ক চিকিৎসা শুরু করুন।

৬. প্রতিরোধই সবচেয়ে সস্তা চিকিৎসা

টিকা: ক্ষুরারোগ, গলাফুলা, ব্ল্যাক কোয়ার্টার (বিকিউ) ও অ্যানথ্রাক্সের মতো রোগের টিকা কর্মসূচি আপনার এলাকার প্রাণিসম্পদ অফিস বা স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। কোন টিকা কখন সহজলভ্য, তা এলাকা ও সময়ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

জৈব নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি):

  • নতুন গরু কিনলে অন্তত ২–৩ সপ্তাহ আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করুন।
  • সুই-সিরিঞ্জ প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা ব্যবহার করুন।
  • গোয়ালে মশা-মাছি দমনে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জমা পানি সরানো ও ময়লা অপসারণ করুন।
  • আঠালি নিয়ন্ত্রণে পশু চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিরাপদ উপায় ব্যবহার করুন।
  • বাইরের লোক ও যানবাহনের জন্য গোয়ালের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করুন।

গরমের ধকল ঠেকানো: বর্ষা-পরবর্তী গুমোট দিনে ছায়া, বাতাস আর পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। দুপুরের তাপে গরুকে হাঁটানো বা মাঠে রাখা এড়ান।

টিকা, পরিচ্ছন্নতা আর নজরদারি। এই তিনটি একসঙ্গে চললে জ্বরের বেশির ভাগ ঝুঁকি কমে যায়।

সাধারণ ভুল: খামারিরা যা প্রায়ই করে ফেলেন

  1. থার্মোমিটার ছাড়া চিকিৎসা শুরু। ফলে জ্বর ছিল কি না, কতটা ছিল, কমেছে কি না কিছুই জানা যায় না।
  2. প্রথম সুইয়েই “সব ঠিক” ধরে নেওয়া। জ্বর সাময়িক কমলেও কারণ থেকে যেতে পারে।
  3. একই সিরিঞ্জে পুরো পালকে সুই। পোকামাকড় ছাড়াও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
  4. ওষুধের কোর্স মাঝপথে বন্ধ। এতে জীবাণু পুরোপুরি মরে না, রোগ ফিরে আসে।
  5. আক্রান্ত গরু হাটে বিক্রি। এতে রোগ এলাকায় ছড়ায়, নিজের সুনামও নষ্ট হয়।
  6. টোটকার ওপর পুরোপুরি ভরসা। ঘরোয়া যত্ন সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সংক্রামক রোগের বিকল্প নয়।

গরুর জ্বরকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, আবার অবহেলা করাও চলবে না। থার্মোমিটার হাতে নিন, গরুটিকে আলাদা করুন, আরামদায়ক পরিবেশ দিন, লক্ষণ লিখে রাখুন আর চিকিৎসককে সময়মতো ডাকুন। এই চারটি অভ্যাস আপনার খামারকে অনেক ক্ষতি থেকে বাঁচাবে।

সামনের দিনগুলোতে জলবায়ুর পরিবর্তন, পোকামাকড়ের চাপ এবং নতুন নতুন রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। যে খামারি আজ থেকেই তাপমাত্রা মাপা, রেকর্ড রাখা আর জৈব নিরাপত্তা মানার অভ্যাস করবেন, কাল তিনিই এগিয়ে থাকবেন। কারণ গরুর জ্বর আসলে বলে দেয়, আপনার গোয়ালে কিছু একটা ঠিক নেই। সেই কথাটা আগে শুনতে পারাই ভালো খামারির কাজ।

সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন :

১. গরুর জ্বর হলে কী করবেন?
প্রথমে থার্মোমিটারে তাপমাত্রা মাপুন। ৩৯.৫°C-এর ওপরে হলে গরুকে আলাদা ছায়াময় জায়গায় রাখুন, পরিষ্কার পানি ও হালকা খাবার দিন, লক্ষণগুলো লিখে রাখুন এবং পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ না জেনে ওষুধ শুরু করবেন না।

২. গরুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত এবং কত ডিগ্রি হলে জ্বর ধরা হয়?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক গরুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৮.০–৩৯.৩°C (১০০.৪–১০২.৮°F)। ৩৯.৫°C-এর ওপরে জ্বর ধরা হয়। ৪০°C বা তার বেশি হলে দেরি না করে চিকিৎসক ডাকা উচিত।

৩. গরুর জ্বরে প্যারাসিটামল বা মানুষের ওষুধ দেওয়া যাবে কি?
নিজে অনুমান করে দেওয়া ঠিক নয়। গরুর ওজন, বয়স, গর্ভাবস্থা ও রোগের কারণ অনুযায়ী ওষুধ ও মাত্রা আলাদা হয়, আর ভুল মাত্রা ক্ষতি করতে পারে। জ্বর কমানোর ওষুধ পশু চিকিৎসকের নির্দেশে দেওয়াই নিরাপদ।

৪. গরুর জ্বর কত দিনে ভালো হয়?
এটি পুরোপুরি নির্ভর করে কারণের ওপর। গরমের ধকলে ছায়া ও পানি পেলে কিছু ঘণ্টায় বা দিনেই উন্নতি হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে সঠিক চিকিৎসায় কয়েক দিনে সামলে ওঠা সম্ভব। ভাইরাসজনিত রোগে সময় বেশি লাগতে পারে। তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে বা অবস্থার অবনতি হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।

৫. গরুর জ্বর হলে খাওয়া বন্ধ করে দিলে কী করবেন?
জ্বরে গরুর রুচি কমা স্বাভাবিক, কিন্তু দুদিনের বেশি খাওয়া বা জাবর কাটা বন্ধ থাকা বিপদের সংকেত। অল্প অল্প করে পানি ও খাবার স্যালাইন দেওয়ার চেষ্টা করুন, কচি ঘাস বা নরম খড় সামনে রাখুন, জোর করে গেলাবেন না। দ্রুত পশু চিকিৎসকের কাছে যান।

-ইজাজ আহমেদ

Tags:

গরুর জ্বর হলে কী করবেনগরুর জ্বরের কারণগরুর জ্বরের চিকিৎসাগরুর জ্বরের লক্ষণ
Author

Ijaj Ahmed

Follow Me
Other Articles
খামারে ঢোকার আগে ফুটবাথ: বায়োসিকিউরিটির প্রথম ও সবচেয়ে সহজ ধাপ
Previous

গরুর খামারের বায়োসিকিউরিটি: টিকা-ওষুধের আগে যে প্রতিরক্ষা আপনার খামারের প্রয়োজন

Recent Posts

  • গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না
  • গরুর খামারের বায়োসিকিউরিটি: টিকা-ওষুধের আগে যে প্রতিরক্ষা আপনার খামারের প্রয়োজন
  • অসুস্থ গরু চেনার উপায়: সকালের ৫ মিনিটের পরীক্ষায় ধরা পড়ে রোগের প্রথম ইঙ্গিত
  • হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান: বিশ্বসেরা দুধেল জাত বাংলাদেশের খামারে কতটা টিকবে?
  • গরুর দৈনিক কত খাবার লাগবে: বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বাংলাদেশি খামারির বাস্তব অভিজ্ঞতা

গোয়ালে ডিজিটাল থার্মোমিটার দিয়ে গরুর জ্বর মাপছেন পশু চিকিৎসক
গরু পালন

গরুর জ্বর: কখন ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট, আর কখন এক ঘণ্টাও দেরি করা যাবে না

Ijaj Ahmed
19/10/2026
খামারে ঢোকার আগে ফুটবাথ: বায়োসিকিউরিটির প্রথম ও সবচেয়ে সহজ ধাপ
গরু পালন

গরুর খামারের বায়োসিকিউরিটি: টিকা-ওষুধের আগে যে প্রতিরক্ষা আপনার খামারের প্রয়োজন

Ijaj Ahmed
28/09/2026
সকালে গোয়ালে গরুর চোখ ও নাক পরীক্ষা করছেন একজন বাংলাদেশি খামারি
গরু পালন

অসুস্থ গরু চেনার উপায়: সকালের ৫ মিনিটের পরীক্ষায় ধরা পড়ে রোগের প্রথম ইঙ্গিত

Ijaj Ahmed
28/09/2026
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা দুধেল গাভী বাংলাদেশের খামারে
গরু পালন

হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান: বিশ্বসেরা দুধেল জাত বাংলাদেশের খামারে কতটা টিকবে?

Ijaj Ahmed
25/09/2026
গরুকে কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হচ্ছে
গরু পালন

গরুর দৈনিক কত খাবার লাগবে: বৈজ্ঞানিক হিসাব ও বাংলাদেশি খামারির বাস্তব অভিজ্ঞতা

Ijaj Ahmed
24/09/2026
মিনারেল মিক্স
গরু পালন

মিনারেল মিক্স: গরু-ছাগলের দুধ, বাচ্চা আর স্বাস্থ্য—সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য নায়ক

Ijaj Ahmed
24/09/2026

Archives

  • October 2026
  • September 2026
  • August 2026
  • July 2026
  • October 2025
  • September 2025
  • August 2025
  • July 2025
  • June 2025
  • May 2025
  • April 2025
  • March 2025

Categories

  • Blog
  • Featured
  • আন্তর্জাতিক খবর
  • খামার ব্যবস্থাপনা
  • খামারি কথা
  • গরু
  • গরু পালন
  • চাকরির খবর
  • ছাগল পালন
  • ছাত্র-ছাত্রী খবর
  • দিবস
  • প্রশাসনিক খবর
  • বিজ্ঞান
  • বিড়াল
  • ব্যবসা-বানিজ্য
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • মুরগী পালন
  • রোগব্যাধি
  • সারাদেশ

ডেইলি লাইভস্টক

সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • সার্কুলেশন
  • নীতি ও শর্ত
  • যোগাযোগ
  • সম্পাদকীয় নীতিমালা

প্রাণিস্বাস্থ্য

বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক

রোগব্যাধি

পশুপালন

  • প্রকাশক- ডা. মো. রায়হান নবী
  • সম্পাদক- ইজাজ আহমেদ
©কপিরাইট 2026 — ডেইলি লাইভস্টক । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত