Skip to content
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • https://www.facebook.com/
  • https://twitter.com/
  • https://t.me/
  • https://www.instagram.com/
  • https://youtube.com/
ডেইলি লাইভস্টক ডেইলি লাইভস্টক

"সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে"

  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
  • প্রতিদিনের সারাদেশ
    • প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর
      • কৃত্তিম প্রজনন
      • প্রানিসম্পদ সম্প্রসারন কাজ সম্পর্কিত
      • রোগব্যাধি
        • গরু
        • ছাগল
        • পোষা প্রানী
        • উদ্যোত্তা নিউজ
        • খামারি কথা
        • নিয়োগ/বদলি খবর
  • প্রশাসনিক
  • চাকরির খবর
  • হাঁস-মুরগী
    • মুরগী
    • হাঁস
  • পশুপালন
    • গরু পালন
    • ছাগল পালন
  • পোষা প্রাণী
    • বিড়াল
    • কুকুর
Subscribe
Close

Search

Home/পশুপালন/গরু পালন/গরুর সাইলেজ তৈরি: ঘাস সংকটেও সারাবছর দুধ আর মাংসের নিশ্চয়তা দেবে যে পদ্ধতি
"সাইলো পিটে ভুট্টার সাইলেজ তৈরির ছবি"

গরুর সাইলেজ তৈরি: ঘাস সংকটেও সারাবছর দুধ আর মাংসের নিশ্চয়তা দেবে যে পদ্ধতি

10/09/2026 7 Min Read
  • সাইলেজ হলো সবুজ ঘাস বা ভুট্টাগাছ বাতাসশূন্য অবস্থায় গেঁজিয়ে (fermentation) সংরক্ষণ করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যাতে ঘাসের পুষ্টিমান প্রায় অক্ষুণ্ণ থাকে।
  • শুকনো মৌসুম, বন্যা বা তীব্র গরমে যখন মাঠে সবুজ ঘাস পাওয়া যায় না, তখন সাইলেজ গরুর দুধ ও মাংস উৎপাদন ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ভুট্টা, নেপিয়ার, পারা ঘাসের মতো ফসল দিয়ে সাইলেজ তৈরি করা যায়; সঠিক পরিপক্বতায় কাটা, সঠিক আর্দ্রতা এবং বাতাসশূন্য প্যাকিং- এই তিনটি শর্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
  • ভুল সময়ে ঘাস কাটা, ঠিকমতো চাপ না দেওয়া বা সাইলো ফুটো থাকলে সাইলেজ পচে যেতে পারে এবং তা গরুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া মৌসুমভিত্তিক। গ্রীষ্ম আর বর্ষায় প্রচুর সবুজ ঘাস জন্মায়, কিন্তু শীত ও খরার মৌসুমে চারণভূমি শুকিয়ে যায়। আবার বন্যার সময় নিচু এলাকার ঘাসের জমি তলিয়ে যায়। এই দুই বিপরীত পরিস্থিতিতেই খামারিরা ঘাস-সংকটে পড়েন।

সমস্যাটা আরও জটিল হয় কয়েকটি কারণে-

  • দেশে চারণভূমির পরিমাণ প্রতি বছর কমছে, কারণ জমি ব্যবহার হচ্ছে ফসল ও বসতবাড়ির জন্য।
  • দানাদার খাদ্যের (ভুট্টা, ভুসি, খৈল) দাম প্রতিবছর বাড়ছে, ফলে শুধু দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর করা লাভজনক নয়।
  • ছোট ও মাঝারি খামারিরা প্রায়ই জানেন না কীভাবে বাড়তি মৌসুমের ঘাস সংরক্ষণ করে সংকটের সময় ব্যবহার করা যায়।
  • ভুল ধারণার কারণে অনেকে মনে করেন সাইলেজ তৈরি জটিল বা ব্যয়বহুল একটি প্রযুক্তি, যা শুধু বড় খামারের জন্য।

ফলাফল—বছরের একটা বড় সময় গরুর পুষ্টি ঘাটতিতে পড়ে, দুধ উৎপাদন কমে যায়, গাভীর প্রজনন ক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং বাছুরের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

সাইলেজ আসলে কী

সাইলেজ হলো সবুজ ঘাস, ভুট্টাগাছ বা অন্য কোনো রসালো ফসলকে বাতাসশূন্য পরিবেশে জমা রেখে নিয়ন্ত্রিত গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা। এই প্রক্রিয়ায় ঘাসের নিজস্ব শর্করা ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা একধরনের প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে এবং ঘাসকে দীর্ঘদিন পচন থেকে রক্ষা করে।

কাঁচা ঘাস কেটে রোদে শুকিয়ে খড় বানালে এর পুষ্টিমানের একটা বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়, বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিনের অংশ। কিন্তু সাইলেজ পদ্ধতিতে ঘাসের আর্দ্রতা ও পুষ্টিগুণ প্রায় অক্ষত থাকে, কারণ এখানে রোদে শুকানোর বদলে নিয়ন্ত্রিত গাঁজন প্রক্রিয়া কাজ করে।

ঘাসকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে বাতাসশূন্য একটি পাত্র, গর্ত (সাইলো পিট) বা মোটা পলিথিন ব্যাগে চাপ দিয়ে ভরে মুখ শক্তভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভেতরের অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে অ্যানারোবিক (বাতাসহীন) ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ঘাসের শর্করাকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত করে। প্রায় ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ পর সাইলেজ খাওয়ানোর উপযোগী হয়ে ওঠে।

উদাহরণ: ধরা যাক, বর্ষায় প্রচুর নেপিয়ার ঘাস জন্মেছে, যা একসাথে খাওয়ানো সম্ভব নয়। এই বাড়তি ঘাস কেটে সাইলেজ বানিয়ে রাখলে শীত বা খরার মৌসুমে যখন মাঠে ঘাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই সংরক্ষিত সাইলেজ খামারিকে বাঁচিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের জলবায়ু ও চাষ পদ্ধতির সঙ্গে সাইলেজ প্রযুক্তি খুব ভালোভাবে মানানসই, কারণ এখানে বর্ষায় ঘাসের প্রাচুর্য আর শীত-গ্রীষ্মে সংকট—দুটোই নিয়মিত ঘটনা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইদানীং সাইলেজ তৈরির প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হচ্ছে, ফলে ছোট খামারিদের পক্ষেও এটি গ্রহণ করা এখন আগের চেয়ে সহজ।

কোন কোন ফসল দিয়ে ভালো সাইলেজ হয়

সব সবুজ ঘাস দিয়ে সমান মানের সাইলেজ তৈরি হয় না। কিছু ফসলে প্রাকৃতিকভাবেই বেশি শর্করা থাকে, যা গাঁজন প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়।

  • ভুট্টাগাছ (Maize): সবচেয়ে জনপ্রিয় ও উৎকৃষ্ট মানের সাইলেজ ফসল। কাণ্ড, পাতা ও দানা—তিনটিই সাইলেজে থাকায় এটি একইসঙ্গে আঁশ ও দানাদার খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। এতে প্রাকৃতিক শর্করা বেশি থাকায় অতিরিক্ত সংযোজক ছাড়াই ভালো গাঁজন হয়।
  • নেপিয়ার ও পাকচং ঘাস: উচ্চফলনশীল এই ঘাসগুলো থেকেও ভালো সাইলেজ পাওয়া যায়, বিশেষ করে ফুল আসার ঠিক আগে কাটলে।
  • পারা ঘাস, দূর্বা, জোয়ার ও অন্যান্য মিশ্র ঘাস: এসব ঘাসে শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় সাধারণত গুড় বা চিটাগুড় মিশিয়ে সাইলেজ তৈরি করতে হয়, যাতে গাঁজন প্রক্রিয়া ঠিকমতো শুরু হয়।

খামারি টিপ: যাদের অল্প জমি আছে, তাঁরা প্রধান ফসল হিসেবে নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস চাষ করে মৌসুমের শেষ দিকের ফলন সাইলেজ করে রাখতে পারেন। যাদের কিছুটা বেশি জমি আছে, তাঁদের জন্য ভুট্টা-সাইলেজ অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক, কারণ এতে বাড়তি দানাদার খাদ্য কেনার খরচ কমে যায়।

ধাপে ধাপে সাইলেজ তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

ধাপ ১: সঠিক সময়ে ঘাস কাটা

সাইলেজের গুণমান নির্ভর করে ঘাস কোন বয়সে কাটা হয়েছে তার ওপর। খুব বেশি পরিপক্ব ঘাসে আঁশের পরিমাণ বেড়ে যায় আর পুষ্টিমান কমে যায়; আবার খুব কচি ঘাসে পানি বেশি থাকায় গাঁজন প্রক্রিয়া ঠিকমতো হয় না।

ভুট্টার ক্ষেত্রে দানা আধা-নরম (dough stage) অবস্থায় থাকতে গাছ কাটা সবচেয়ে ভালো। ঘাসজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ফুল আসার ঠিক আগের অবস্থায় কাটতে হবে। কাটার পর ঘাসগুলোকে একই পরিপক্বতার হতে হবে, যাতে সবটুকু একসঙ্গে সমানভাবে গাঁজন হয়।

ধাপ ২: ঘাস চপিং করা (ছোট টুকরো করা)

কাটা ঘাস বা ভুট্টাগাছ চপার মেশিন বা ধারালো দা দিয়ে প্রায় ১-৩ সেন্টিমিটার আকারের ছোট টুকরোয় কাটতে হবে। ছোট টুকরো হলে সাইলোর ভেতরে ঘাস ভালোভাবে চাপা যায়, বাতাস কম থাকে এবং গাঁজন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সমানভাবে হয়।

ধাপ ৩: সাইলো তৈরি করা—গর্ত না ব্যাগ

ছোট ও মাঝারি খামারিদের জন্য দুটি সহজ পদ্ধতি প্রচলিত—

  • সাইলো পিট (মাটির গর্ত পদ্ধতি): উঁচু, জলাবদ্ধতামুক্ত জায়গায় একটি আয়তাকার গর্ত খুঁড়তে হয়। গর্তের তলা ও চারপাশে প্রথমে খড়ের পুরু স্তর অথবা মোটা পলিথিন বিছিয়ে নিতে হয়, যাতে মাটির সংস্পর্শে ঘাস নষ্ট না হয় এবং বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকতে না পারে।
  • সাইলো ব্যাগ পদ্ধতি: বড় মোটা পলিথিন ব্যাগে (ডাবল লেয়ার) চপ করা ঘাস ভরে বাতাস বের করে মুখ শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। জমি না থাকা বা ছোট পরিসরে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক।

ধাপ ৪: স্তরে স্তরে ঘাস সাজানো ও সংযোজক মেশানো

চপ করা ঘাস সাইলোতে প্রায় ১৫-৩০ সেন্টিমিটার পুরু স্তরে সাজিয়ে প্রতিটি স্তরে ভালোভাবে পা বা ভারী কিছু দিয়ে চেপে দিতে হবে, যাতে ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি না হয়।

যেসব ঘাসে প্রাকৃতিক শর্করা কম (যেমন মিশ্র ঘাস), সেখানে প্রতি স্তরে চিটাগুড় ও পানির মিশ্রণ (সাধারণত পানির সঙ্গে চিটাগুড় মিশিয়ে হালকা করে) ছিটিয়ে দিতে হয়, যা গাঁজনকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা জোগায়। ভুট্টা বা পাকচং ঘাসের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক শর্করা যথেষ্ট থাকায় সাধারণত আলাদা সংযোজক ছাড়াই ভালো সাইলেজ হয়।

ধাপ ৫: বাতাসশূন্য করে মুখ বন্ধ করা

সাইলো পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেলে ওপরে মোটা পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে চারপাশ মাটি বা বালির বস্তা দিয়ে চাপা দিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বাতাস বা বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকতে না পারে। এই ধাপটি সাইলেজের গুণমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সামান্য ছিদ্র থাকলেও পুরো সাইলেজ পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ধাপ ৬: গাঁজন ও অপেক্ষার সময়

মুখ বন্ধ করার পর সাইলো নাড়াচাড়া না করে অন্তত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ে ভেতরে অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া কাজ করে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা সাইলেজকে সংরক্ষণযোগ্য করে তোলে। ভালোভাবে তৈরি সাইলেজে হালকা টক-মিষ্টি গন্ধ থাকে, রং হয় সবুজাভ-হলুদ, আর গঠন থাকে নরম অথচ দানাদার।

সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম ও স্বাস্থ্য সতর্কতা

একজন পশুচিকিৎসক হিসেবে সাইলেজ ব্যবহারে কয়েকটি বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে বলি—

  • ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করান: কোনো গরুকে হঠাৎ করে অনেক বেশি সাইলেজ খাওয়ানো ঠিক নয়। প্রথম কয়েকদিন অল্প পরিমাণে দিয়ে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে হজমতন্ত্র মানিয়ে নিতে পারে।
  • পচা বা ছত্রাকযুক্ত সাইলেজ বর্জন করুন: সাইলো খোলার পর যদি কালচে রং, দুর্গন্ধ বা ছাতা পড়া অংশ দেখা যায়, সেই অংশ কোনোভাবেই খাওয়ানো যাবে না। এমন সাইলেজে মাইকোটক্সিন তৈরি হতে পারে, যা লিভারের ক্ষতি ও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • সুষম রেশনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করুন: সাইলেজ একা পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নয়। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত শুকনো খড়, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ যোগ করে সুষম রেশন তৈরি করতে হবে।
  • জৈব-নিরাপত্তা (Biosecurity) বজায় রাখুন: সাইলো খোলা ও বন্ধ করার সময় হাত-পা পরিষ্কার রাখা এবং একবার খোলা সাইলো দ্রুত ব্যবহার করে ফেলা জরুরি, কারণ বাতাসের সংস্পর্শে এলে বাকি অংশ দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে।
  • গর্ভবতী ও দুর্বল পশুর ক্ষেত্রে সতর্কতা: গর্ভবতী গাভী বা অসুস্থ পশুকে সাইলেজ খাওয়ানোর আগে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, বিশেষত সাইলেজের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে।

খামারিরা যেসব সাধারণ ভুল করেন

ভুলকেন ক্ষতিকরসমাধান
খুব বেশি পরিপক্ব বা অতিরিক্ত কচি ঘাস কাটাপুষ্টিমান কমে যায় বা গাঁজন ঠিকমতো হয় নাসঠিক পরিপক্বতায় (ফুল আসার আগে বা দানা আধা-নরম অবস্থায়) কাটা
সাইলোতে ঘাস ঢিলেঢালাভাবে ভরাভেতরে বাতাস থেকে যায়, ফলে পচন শুরু হয়প্রতি স্তরে ভালোভাবে চেপে চেপে ভরা
পলিথিন বা ঢাকনায় ছিদ্র থাকাবাতাস ও পানি ঢুকে পুরো সাইলেজ নষ্ট করে দেয়ডাবল পলিথিন ব্যবহার ও ভালোভাবে চাপা দেওয়া
সময়ের আগেই সাইলো খুলে ফেলাগাঁজন সম্পূর্ণ না হওয়ায় মান খারাপ থাকেকমপক্ষে ৩-৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করা
একসঙ্গে অনেক পুরনো ও নতুন সাইলেজ মিশিয়ে খাওয়ানোহজমে সমস্যা তৈরি করতে পারেধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়িয়ে অভ্যস্ত করা

সাইলো খোলার পর প্রতিদিন যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই বের করুন এবং বাকি অংশ ভালোভাবে আবার ঢেকে রাখুন। সাইলোর মুখ বেশিক্ষণ খোলা রাখলে বাতাসের সংস্পর্শে সাইলেজ দ্রুত গরম হয়ে নষ্ট হতে শুরু করে, একে বলে “সেকেন্ডারি ফার্মেন্টেশন” বা পুনঃগাঁজন—এটি এড়াতে পারলেই সাইলেজের প্রকৃত সুফল পাওয়া যায়।

সাইলেজ কোনো জটিল প্রযুক্তি নয়—এটি মূলত একটি অভ্যাস, যা একবার রপ্ত করে ফেললে খামারের অর্থনীতি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। বর্ষার বাড়তি ঘাসকে ফেলে না রেখে সংরক্ষণ করে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ শুকনো মৌসুমে সেই একই ঘাস বাজারে কিনতে গেলে অনেক বেশি খরচ পড়ে।

যাঁরা এখনো সাইলেজ তৈরি শুরু করেননি, তাঁদের জন্য পরামর্শ থাকবে—এই বর্ষা মৌসুমে ছোট পরিসরে, হয়তো একটামাত্র সাইলো ব্যাগ দিয়েই শুরু করুন। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে পরের বছর পরিসর বাড়ান। আগামী দিনে যখন ঘাসের বদলে দানাদার খাদ্যের দাম আরও বাড়বে, তখন যাঁরা আজ সাইলেজ তৈরির কৌশল রপ্ত করে রাখবেন, তাঁরাই খামার টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন:

১. সাইলেজ তৈরি করতে কত দিন সময় লাগে?

-সাইলো বন্ধ করার পর সাধারণত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে সাইলেজ খাওয়ানোর উপযোগী হয়ে ওঠে।

২. সাইলেজ কতদিন সংরক্ষণ করা যায়?

-সঠিকভাবে বাতাসশূন্য অবস্থায় বন্ধ রাখলে সাইলেজ কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে সাইলো একবার খোলার পর তা যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করে ফেলা উচিত।

৩. ছোট খামারিরাও কি সাইলেজ তৈরি করতে পারবেন?

-হ্যাঁ। বড় যন্ত্রপাতি ছাড়াই দা দিয়ে ঘাস চপ করে মাটির গর্ত বা মোটা পলিথিন ব্যাগে অল্প পরিসরেও সাইলেজ তৈরি করা সম্ভব।

৪. সাইলেজ কি সব ধরনের গরুকে খাওয়ানো যায়?

-সাধারণভাবে দুধেল গাভী, ষাঁড় ও বাছুর—সবাইকে সাইলেজ খাওয়ানো যায়, তবে পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে এবং গর্ভবতী বা অসুস্থ পশুর ক্ষেত্রে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

-ইজাজ আহমেদ, মাভাবিপ্রবি

Tags:

গরুর খাদ্য তালিকাদুধেল গাভীর খাদ্যনেপিয়ার ঘাসের সাইলেজভুট্টার সাইলেজভুট্টার সাইলেজ তৈরির পদ্ধতিসাইলেজ কিসাইলেজ তৈরির পদ্ধতিসাইলেজ তৈরির ভিডিওসাইলো পিট
Author

Ijaj Ahmed

Follow Me
Other Articles
শাহীওয়াল জাতের গাভী বাংলাদেশের খামারে দুধ দিচ্ছে
Previous

শাহীওয়াল গরু: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সেরা দুধেল জাত চেনার ও পালনের উপায়- Shahiwal Breed

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

You must be logged in to post a comment.

Recent Posts

  • গরুর সাইলেজ তৈরি: ঘাস সংকটেও সারাবছর দুধ আর মাংসের নিশ্চয়তা দেবে যে পদ্ধতি
  • শাহীওয়াল গরু: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সেরা দুধেল জাত চেনার ও পালনের উপায়- Shahiwal Breed
  • মাভাবিপ্রবি ভেটেরিনারি অনুষদের ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন । ACME Laboratories Ltd.
  • বিড়ালের ফ্লু চেনার উপায় ও চিকিৎসা – Cat Flu
  • ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়া এর চিকিৎসা: এ টু জেড গাইড- Feline Panleukopenia or Feline Distemper

"সাইলো পিটে ভুট্টার সাইলেজ তৈরির ছবি"
গরু পালন

গরুর সাইলেজ তৈরি: ঘাস সংকটেও সারাবছর দুধ আর মাংসের নিশ্চয়তা দেবে যে পদ্ধতি

Ijaj Ahmed
10/09/2026
শাহীওয়াল জাতের গাভী বাংলাদেশের খামারে দুধ দিচ্ছে
গরু পালন

শাহীওয়াল গরু: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সেরা দুধেল জাত চেনার ও পালনের উপায়- Shahiwal Breed

Ijaj Ahmed
10/09/2026
সারাদেশ

মাভাবিপ্রবি ভেটেরিনারি অনুষদের ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন । ACME Laboratories Ltd.

Ijaj Ahmed
09/09/2026
বিড়ালের ফ্লুর লক্ষণ নাক দিয়ে পানি পড়া
বিড়াল

বিড়ালের ফ্লু চেনার উপায় ও চিকিৎসা – Cat Flu

Ijaj Ahmed
07/09/2026
ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়ায় আক্রান্ত দুর্বল বিড়ালছানা চিকিৎসাধীন
বিড়াল

ফেলাইন প্যানলিউকোপেনিয়া এর চিকিৎসা: এ টু জেড গাইড- Feline Panleukopenia or Feline Distemper

Ijaj Ahmed
05/09/2026
দেশি গরু ও সংকর গরুর তুলনামূলক ছবি বাংলাদেশের খামারে
গরু পালন

দেশি গরু বনাম সংকর গরু: কোনটায় লাভ বেশি, কোনটায় ঝুঁকি বেশি?

Ijaj Ahmed
02/09/2026

Archives

  • September 2026
  • August 2026
  • July 2026
  • October 2025
  • September 2025
  • August 2025
  • July 2025
  • June 2025
  • May 2025
  • April 2025
  • March 2025

Categories

  • Blog
  • Featured
  • আন্তর্জাতিক খবর
  • খামার ব্যবস্থাপনা
  • খামারি কথা
  • গরু
  • গরু পালন
  • চাকরির খবর
  • ছাগল পালন
  • ছাত্র-ছাত্রী খবর
  • দিবস
  • প্রশাসনিক খবর
  • বিজ্ঞান
  • বিড়াল
  • ব্যবসা-বানিজ্য
  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
  • মুরগী পালন
  • রোগব্যাধি
  • সারাদেশ

ডেইলি লাইভস্টক

সত্য খবরে, প্রাণিসম্পদ ও বাইরে
  • আমাদের সম্পর্কে
  • বিজ্ঞাপন
  • সার্কুলেশন
  • নীতি ও শর্ত
  • যোগাযোগ
  • সম্পাদকীয় নীতিমালা

প্রাণিস্বাস্থ্য

বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক

রোগব্যাধি

পশুপালন

  • প্রকাশক- ডা. মো. রায়হান নবী
  • সম্পাদক- ইজাজ আহমেদ
©কপিরাইট 2026 — ডেইলি লাইভস্টক । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত